Showing posts with label Wordpress. Show all posts
Showing posts with label Wordpress. Show all posts

Wordpress এর পোস্টগুলো Blogger এ নিয়ে আসার পদ্ধতি

move wordpress to blogger
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি তারিখে হঠাৎ করে বিখ্যাত ব্লগলিখিয়ে ফ্লোরেন্স রিয়ার আকাশপ্রদীপ ব্লগের বিভিন্ন উইজেট (Widget) মুছে যায়। আমরা জানি, একজন ব্লগার অনেক সময় নিয়ে, অনেক কষ্ট স্বীকার করে নিজের ব্লগটিতে বিভিন্ন উইজেট/ গেজেট লাগান। এই গেজেটগুলো তাকে নানারকম প্রয়োজনীয় তথ্য দেয় এবং পাঠকদের সাথে আরও সুসম্পর্ক তৈরিতে সহায়তা করে। এখন হঠাৎ করে গেজেটগুলো মুছে যাওয়ায় রিয়ার কেমন সমস্যা হয়েছে, তা ভাবতেও আমি ভয় পাচ্ছি। আমি Wordpress.com এর এই স্বৈরাচারী আচরণের তীব্র প্রতিবাদ করছি।

Wordpress.com একটি নতুন টেমপ্লেট রিলিজ করায় রিয়া সেটা নিজের ব্লগে সেট করে নেয়। কিন্তু তাকে কোনরকম পূর্ব সতর্কতা বার্তা না জানিয়েই তার ব্লগের কয়েকটি প্রয়োজনীয় গেজেট মুছে ফেলা হয়েছে। এটা যে কতটা অন্যায় তা হয়ত ওয়ার্ডপ্রেস কর্তৃপক্ষ অনুধাবন করবে না। কারণ মাত্র ১০-২০ জন নিয়মিত bn.wordpress.com ব্যবহারকারীর জন্য তাদের মাথাব্যথা কেনই বা থাকবে, তাই না? এই কয়জনের জন্য তাদের সাপোর্ট টিম রাখার প্রশ্নই ওঠেনা। আর তাই রিয়ার গেজেট মুছে দেয়ার ফলে তাঁর কি ক্ষতি হয়ে গেল, তা নিয়ে ওয়ার্ডপ্রেসের চিন্তা থাকবে কেন? রিয়া প্রতিবাদ জানিয়ে মেইল করেছিলেন। কিন্তু তারা রিয়াকে প্রতিউত্তর দেয়ার সৌজন্যও দেখায়নি। তাঁর প্রতি সমবেদনা ও সহানুভূতি জানিয়ে আজকের পোস্টটি শুরু করছি।

প্রিয় ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেস.কম (wordpress.com) ব্যবহারকারী পাঠক, একই অবস্থা আপনারও হতে পারে। বিখ্যাত ব্লগার রিয়া'র সাথে যেমন আচরন করা হয়েছে, আপনিও সেরকম মূল্যায়নের শিকার হতে পারেন। তাই এখনই সতর্ক হয়ে নিন। চলে আসুন ব্লগার.কম (blogger.com) এ। বিনেপয়সায় ব্লগ লিখতে হলে এর কোন বিকল্প এখনও অনলাইনে নেই। ব্লগার.কমে নিজের মনের মতো করে ব্লগটিকে সাজিয়ে নিতে তো পারবেনই। এছাড়াও গুগল এডসেন্স (Google Adsense) ব্যবহার করে দু'পয়সা উপার্জনও করতে পারবেন। যা আপনি ওয়ার্ডপ্রেস.কম এ কখনই পাবেন না। ওয়ার্ডপ্রেসের তুলনায় ব্লগারের লোডিং স্পিড অনেক অনেক বেশি। বিশেষ করে পোস্ট লিখতে গিয়ে বাংলাদেশের ধীরগতির নেটস্পিড দিয়ে পোস্ট এডিটর কতক্ষণে লোড হয় তার পার্থক্য নিজে ব্যবহার করলেই বুঝতে পারবেন। আমি নিজেও আগে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করতাম। কিন্তু পরে ব্লগারে চলে এসেছি। এ ব্যাপারে আর একটি পোস্ট আমি পরে লিখছি। তার আগে আজ আপনাদেরকে জানাচ্ছি, যারা ওয়ার্ডপ্রেস থেকে ব্লগারে চলে আসতে চান, তাদের জন্য একটি সুখবর।

ওয়ার্ডপ্রেসে হয়ত বেশ কিছুদিন থেকেই ব্লগ লিখে চলেছেন, এখন ব্লগারে চলে আসবেন। এখন আপনার পুরনো পোস্টগুলোর কি হবে? তাই না? সেগুলো কি ব্লগারে আবার নতুন করে লিখতে হবে? না বন্ধু। তার আর দরকার নেই। আসুন জেনে নিই কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগের লেখাগুলো ব্লগারের ব্লগে নিয়ে আসতে পারবেন? একটি সহজ ওয়েবটুল (Webtool) ব্যবহার করে ওয়ার্ডপ্রেসের পোস্টগুলোকে ব্লগারে অনায়াসে এক্সপোর্ট (Export) করতে পারবেন।

এই সহজ ওয়েবটুলটির ঠিকানা হলঃ http://wordpress2blogger.appspot.com/
এর জন্য আপনাকে সহজ কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে। কিভাবে করবেন?
  • bn.wordpress.com এ লগইন করে নিন।
  • ড্যাশবোর্ডের বামপাশের সাইডবারের নিচে Tools লেখার পাশের ড্রপডাউন তীরচিহ্নটিতে ক্লিক করুন। একটি মেনু খুলে যাবে। সেখানে Export লেখাতে ক্লিক করুন
  • wordpress tools menu
  • এরপর আর একটি পেজ আসবে।
  • wordpress export page
  • এখানে ইচ্ছে করলে নির্দিষ্ট কোন লেখকের লেখাগুলোকে ডাউনলোড করে নিতে পারে। আমরা যেহেতু ব্লগের সবগুলো পোস্টকে ডাউনলোড করবো, সেহেতু ডিফল্ট All Authors নির্বাচিত রেখে দিব।
  • Download Export File লেখা নিচের বাটনটিতে ক্লিক করুন। ব্লগের পোস্টগুলো ডাউনলোড হয়ে যাবে। ওয়ার্ডপ্রেস একাউন্ট থেকে লগআউট হয়ে নিন।
  • ডাউনলোডকৃত ফাইলটির নাম হবে এরকম wordpress.2010-02-15.xml
  • এই ফাইলটিকে এবার http://wordpress2blogger.appspot.com/ সাইট থেকে কনভার্ট করে নিতে হবে।
  • এই সাইটের মাঝামাঝি জায়গায় থাকা Browse বাটনে ক্লিক করে হার্ডডিস্কে থাকা wordpress.2010-02-15.xml ফাইলটিকে দেখিয়ে দিন এবং Convert বাটনে ক্লিক করুন। ফাইলটি ব্লগারে ব্যবহারের উপযোগী হয়ে কনভার্ট হয়ে যাবে। কনভার্টকৃত ফাইলটিকে হার্ডডিস্কে সেভ করে নিন। ফাইলটির নাম হবে এরকম blogger-export.xml
  • এবার blogger.com এ লগইন করুন।
  • ব্লগারের ড্যাশবোর্ডে যে ব্লগটিতে ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগের লেখাগুলোকে নিয়ে আসতে চান, সেই ব্লগের নামের নিচে লেখা Settings ক্লিক করুন।
  • blogger settings import
  • দেখুন Blog Tools এর পাশে Import blog, Export blog, Delete blog লেখা রয়েছে। এখানে Import blog লেখা লিংকে ক্লিক করুন।
  • এখানে কনভার্ট করা blogger-export.xml নামক ফাইলটিকে Browse বাটনে ক্লিক করে দেখিয়ে দিন।
  • ক্যাপচার বর্ণগুলো সঠিকভাবে টাইপ করুন।
  • আমদানি করা পোস্টগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রকাশ করতে চান, তাহলে Automatically publish all imported posts লেখার পাশের টিক বক্সে টিক চিহ্ন দিয়ে দিন। অথবা যদি imported হিসেবে রেখে দিতে চান, তাহলে টিকচিহ্ন দেয়ার দরকার নেই।
  • ইমপোর্ট হয়ে গেলে Posting> Edit Posts এ Imported নামে আলাদা একটি ট্যাব পাবেন।
  • এবার ধীরে ধীরে পোস্টগুলোতে প্রয়োজনমতো সম্পাদনা করে নিয়ে পাবলিশ করতে পারবেন
  • ব্যস হয়ে গেল। ওয়ার্ডপ্রেস থেকে ব্লগস্পটে আপনার ব্লগটি ব্লগপোস্ট, বিভিন্ন লেখা, পাঠকের মন্তব্য, ক্যাটাগরি, ট্যাগসহ আমদানি করা হয়ে গেল।
  • এবার অনুভব করা শুরু করে দিন মনের মতো করে ব্লগিং করা।
সুবিধাঃ
  • ওয়ার্ডপ্রেসের সীমাবদ্ধতার বন্দীদশা থেকে মুক্ত হয়ে গেলেন। এবার মনের মতো করে ব্লগটির টেমপ্লেট পরিবর্তন করুন, সাজিয়ে নিন।
  • যা খুশি, যেরকমের খুশি HTML বা Javascript গেজেট ব্যবহার করুন।
  • Google Adsense ব্যবহার করে দুটো অতিরিক্ত পয়সা আয় করুন।
  • চিন্তা করবেন না, ওয়ার্ডপ্রেসে থাকাকালীন ব্লগে পাঠকদের করা সবকটি মন্তব্য থেকে যাবে। একটাও মুছে যাবে না।
  • ওয়ার্ডপ্রসের ক্যাটাগরী ব্লগারে লেবেল হিসেবে থেকে যাবে।
অসুবিধাঃ
  • ওয়ার্ডপ্রেসে ক্যাটাগরীর পাশাপাশি ট্যাগ নামে আর একটি পোস্ট চিহ্নিতকরন ব্যবহার করতেন। ব্লগার.কম এ ট্যাগ নামে কোন কিছু নেই। তাই পুরনো ব্লগের ট্যাগগুলো ক্যাটাগরির সাথে লেবেল হিসেবে পরিবর্তিত হয়ে যাবে।
  • উল্লেখ্য যে, ওয়ার্ডপ্রেস থেকে Export করা xml ফাইলটির সাইজ ১ মেগাবাইটের কম হতে হবে। ১ মেগাবাইটের চেয়ে আকার বেশি হলে এই ওয়েবটুলটি কাজ করবে না।

Gravatar ব্যবহার করে সারা পৃথিবীর সাথে পরিচিত হয়ে উঠুন

Gravatar Logoঅনলাইনে নিজের নামের সাথে একটি ছোট্ট ইমেজ (Image) আমরা কমবেশি সবাই ব্যবহার করি। একে অবতার (Avatar) বলে। হিন্দুধর্মের ভগবান যুগে যুগে কালে কালে বিভিন্ন প্রয়োজনে বিভিন্ন রূপ ধারণ করে পৃথিবীতে আসতো। এই ধারণাটিকে মাথায় রেখে অনলাইনে অবতারের ব্যবহার শুরু হয়েছে। এখানেও আমরা অনলাইন ইউজাররা (User) বিভিন্ন সাইটে বিভিন্ন নামে বিভিন্ন কাজ করে থাকি। আর এজন্য বিভিন্ন একাউন্টের জন্য ব্যবহার করি বিভিন্নরকম অবতার। অনেকে আবার এটা পছন্দ করেননা। তাঁরা নিজ নাম ও ছবি দিয়েই সব সাইটে লগইন বা মন্তব্য করেন।

False Gravatar _ False Gravatar _ False Gravatar _ False Gravatar
তা সে যাই হোক। আপনি নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন যে, কোন কোন সাইট/ ব্লগে মন্তব্য করার পর অবতারের জায়গায় বিদঘুটে কিছু ইমেজ দেখা যায়। উপরের ছবিগুলো দেখুন। নিশ্চয় আপনার কাছে ছবিগুলো কেমন উদ্ভট মনে হচ্ছে, তাই না। তার চেয়ে যদি এমন হতো যে আপনি নিজের পছন্দমতো কোন ছবি মন্তব্য'র পাশে অবতার হিসেবে দেখালেন। তা সে সত্যি হোক আর মিথ্যাই হোক। নিজের নামে বিদঘুটো ছবি না দেখিয়ে যদি পছন্দমতো অবতার প্রদর্শন করাতে চান, তাহলে এই পোস্ট আপনারই জন্য।
Now use gravatar as your global face or avatar.
এই অসাধারণ ফিচারটি আপনার জন্য সরবরাহ করছে Gravatar ।এদের দেয়া দারুণ সুবিধাটি আপনি মাত্র একটি একাউন্ট খুলেই করতে পারবেন। আপনার ইমেইলের সাথে যে ছবিটি অবতার হিসেবে নির্বাচিত হয়ে থাকবে, ঠিক সেটাই আপনি পৃথিবীর সব সাইটে মন্তব্য করার সময় নিজের নামের পাশে দেখতে পাবেন। অবশ্য একই ইমেইল ঠিকানা সবসময় ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ আপনি যদি একাধিক ইমেইল দিয়ে একাধিক একাউন্ট গ্রাভাটারে খোলেন এবং প্রত্যেকটা একাউন্টের সাথে আলাদা আলাদা ইমেজ অবতার হিসেবে সিলেক্ট করেন, তাহলে সবসময় নির্দিষ্ট ইমেইলের সাথে নির্দিষ্ট ছবিটি দেখা যাবে। এতে আপনার নাম বা আইডি'টির একটি নিজস্ব অবতার সারা পৃথিবীর কাছে পরিচিত হয়ে যাবে।
Using gravatar is very easy. It is integrated with wordpress.
বিশ্বের বেশিরভাগ ব্লগ প্লাটফরম গ্রাভাটার সাপোর্ট করে। আপনার যদি ওয়ার্ডপ্রেসে (Wordpress) একটি একাউন্ট থাকে, তাহলে সেটাই গ্রাভাটার একাউন্ট হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। বিপরীতভাবে গ্রাভাটার একাউন্টকে ওয়ার্ডপ্রেস একাউন্ট হিসেবেও ব্যবহার কর যাবে। আগে খোলা ওয়ার্ডপ্রেস একাউন্টে কোন প্রোফাইল (Profile) ইমেজ থাকলে সেটাই আপনার গ্রাভাটার অবতার হিসেবে ব্যবহৃত হবে। ওয়ার্ডপ্রেস ছাড়াও দ্রুপাল (Drupal), জুমলা (Joomla) প্রভৃতি প্লাটফর্মে গ্রাভাটার ব্যবহার করা যায়। এগুলো ছাড়া অন্য প্লাটফর্মগুলোতে ব্যবহারের জন্য রয়েছে প্লাগইন। এর তালিকা দেখতে এই পাতাটি ভ্রমণ করতে পারেন।

এবার তাহলে আসুন, আমরা জেনে নিই কিভাবে গ্রাভাটারে একাউন্ট খুলতে হয় ও তার সাথে একটি পছন্দসই ইমেজ অবতার হিসেবে নির্বাচন করে রাখা যায়।

# প্রথমেই http://en.gravatar.com সাইটে যান। সাইটটি দেখতে নিচের ছবিটির মতো।
Gravatar Website# এখানে নিচে লেখা বামপাশে "Get your Gravatar today" লেখা বাটনটিতে ক্লিক করুন। পরের পাতায় চলে আসবেন।
Signup to get own gravatar# আপনার যে ইমেইলের সাথে Gravatar সংযুক্ত করতে চান, তা লিখে Signup লেখা বোতামে ক্লিক করুন।
confirmation email was sent# প্রদত্ত ইমেইল ঠিকানায় একটি কনফার্মেশন ইমেইল পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হচ্ছে।
# এবার ইমেইলটির ইনবক্স খুলুন। সেখানে নতুন একটি মেইল Gravatar থেকে এসেছে। সেখানে লেখা রয়েছে..
Welcome to gravatar!

To activate your account, simply click on the link below or paste into the url field on your favorite browser:

http://en.gravatar.com/accounts/activate/youremailid@gmail.com/abcd******
# নিচের লিংকটিতে আপনার ইমেইল ও একটি বিশেষ নাম্বার লেখা থাকবে। এই লিংকে ক্লিক করুন।
finish creating account at gravatar# এবার যে পাতাটি ওপেন হবে, সেখানে সাবধানতার সাথে ফরমটি পূরণ করুন। যে নামটি নিতে চান, তা অাপনার আগে অন্য কেউ নিয়ে নিয়েছে কি না তা Check লেখা বোতামে ক্লিক করে জেনে নিতে পারবেন। ইউজার নাম, পাসওয়ার্ড দিয়ে signup লেখাতে ক্লিক করে পরবর্তী ধাপে চলে যান।
Gravatar account# গ্রাভাটারে আপনার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। মনে রাখুন যে, আপনার দেয়া ইউজার আইডি (User ID) ও পাসওয়ার্ডটি (Password) ওয়ার্ডপ্রেস একাউন্ট হিসেবেও ব্যবহার করতে পারবেন।
You can use gravatar id and password as a wordpress account.
এমতাবস্থায় আপনার একাউন্টের সাথে কোন ইমেজকে সংযুক্ত করা হয়নি। এখন যদি আপনি এই ইমেইল দিয়ে কোন ওয়েবসাইটে মন্তব্য করেন, তাহলে নিচের ছবিটি আপনার অবতার হিসেবে প্রদর্শিত হবে।
No Gravatar Imageএটা নিশ্চয় আপনি আশা করেন না। তাই এবার একটি পছন্দের ছবি অবতার হিসেবে নির্বাচন করার পালা।

পূর্বের ধাপে
Add one by clicking here লেখাতে ক্লিক করে এগিয়ে যান।
আপনি যে কোন জায়গায় থাকা যে কোন ইমেজ ফাইলকে (Image file) অবতার (Avatar) হিসেবে নির্বাচন করতে পারবেন। নিচের ছবি দেখুনঃ
Choose image from any sourceমোট চারটি অপশন রয়েছে।
  • কম্পিউটারের হার্ডডিস্কে থাকা কোন ছবির ফাইল।
  • ইন্টারনেটে কোথাও হোস্ট (Hosted online) করা ইমেজ ফাইল। এটার ডাইরেক্ট লিংক (Direct link) ব্যবহার করতে হবে।
  • নিজের কম্পিউটারে থাকা ওয়েবক্যাম (Webcam) দিয়ে এক্ষুনি একটা ছবি তুলে নিতে পারবেন।
  • অন্যরা আগেই অবতার হিসেবে ব্যবহার করেছে এমন কোন ছবি।
আমি এই পোস্টের প্রয়োজনে "My computer's hard drive" অপশনটি ব্যবহার করেছি। যে কোন সাইজের ছবি আপলোড (Upload) করে নিতে পারবেন। আপলোডের পর মাপমতো কেটে (Crop) নেয়ার অপশন আসবে। তাই আগেভাগেই ছবিটি নির্বাচন করে নিন।
crop gravatar image# ছবির উপরে/ নীচে বামপাশে Crop and Finish লেখাতে ক্লিক করুন।
আরও একটি বিশেষ কাজ বাকী রয়ে গেছে।
Rate your gravatarআগের ধাপে Crop and Finish বোতামে ক্লিক করলে উপরের ছবির মতো আর একটি পেজ আসবে। আপনার ছবিটি নীতি নৈতিকতার দিক থেকে কোন মানের তা নির্বাচন (Rating) করতে হবে। এজন্য G, PG, R, X এই চারটির মধ্যে যে কোন একটিকে বেছে নিন। আমি G বেছে নিয়েছি। এর অর্থ হল আমার ছবিটি সবধরণের সাইটে প্রদর্শনের জন্য উপযুক্ত। কোনরকম হিংস্রতা, অশ্লীলতা, নগ্নতা বা আক্রমণাত্মক ভঙ্গি ছবিটিতে নেই।
Final Gravatarপছন্দের রেটিং করার পর এই পাতাটি এসে জানিয়ে দেবে যে আপনার Gravatar একাউন্টে একটি অবতার নির্বাচন করা সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে যে কোন ওয়েবসাইটে মন্তব্য করার সময় এই ইমেইলটি ব্যবহার করলে (নাম যাই দিন না কেন) এই ছবিটি অবতার হিসেবে প্রদর্শিত হবে।
  • ইচ্ছে করলে আপনি আরও ইমেইল এই একই একাউন্টে যোগ করতে পারবেন।
  • যে কোন সময় ছবিটি পাল্টাতে পারবেন।

ওয়ার্ডপ্রেসের মতো পেজ তৈরি করুন ব্লগার.কম এ খোলা ব্লগে

ওয়ার্ডপ্রেস (Wordpress) দিয়ে যারা ব্লগিং (Blogging) করেন, তারা নিজেদের ব্লগে (Blog) ওয়েবসাইটের (Website) মতো পেজ তৈরি করেন। 'ভূমিকা', 'ডাউনলোড', 'সফটওয়ার', 'আমার পরিচয়' ইত্যাদি নামে একাধিক পেজ (Page) তৈরি করেন। তাঁরা কোন কারণে যদি ব্লগার.কম (Blogger.com) এ ব্লগ লেখা শুরু করেন, তাহলে এই পাতা তৈরি করার সুবিধাটির অভাব খুব বোধ করেন। বিভিন্ন ফোরামে (Forum) ব্লগার.কম এ খোলা ব্লগে কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেসের মতো পেজ তৈরি করা যায় সে প্রশ্ন করেন। আমার 'বাংলা হ্যাকস' ব্লগেও এই প্রশ্নটি করা হয়েছে।

ওয়ার্ডপ্রেসে আসলে কোন ওয়েব পাতা (Webpage) আছে কিনা, আমি সে বিষয়ে নিঃসন্দেহ নই। কারণ ওয়ার্ডপ্রেসের কোন ব্লগ বা সাইটে ভ্রমণকালীন ব্রাউজারের (Browser) এড্রেসবারে (Address bar) খেয়াল করলে দেখা যায় যে সেই পোস্টপাতাটির কোন এক্সটেনশন (Extension) নেই। যেমন নিচের ছবিটি লক্ষ্য করুন:-
এই ছবিটি ওয়ার্ডপ্রেসে খোলা একটি ব্লগের একটি ব্লগপোস্টের (Blogpost) ওয়েবঠিকানা (Web URL)। এবার নিচের ছবিটি লক্ষ্য করুন:-
এই ছবিটি হল ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগে তৈরি করা একটি পাতার ওয়েবঠিকানা (Page Address)।

ওয়ার্ডপ্রেসে যারা পেজ তৈরি করেছেন, তাদের নিচের ছবিদুটি একটু ভালোভাবে দেখার অনুরোধ করি।
এই ছবিটি ব্লগার.কম এ খোলা একটি পোস্ট পাতার (Post Page)। এই পাতাটির ওয়েবঠিকানাটি লক্ষ্য করুন শেষে .html লেখা রয়েছে। অর্থাৎ এটা একটি html ডকুমেন্ট। এটার নিজস্ব একটি ঠিকানা (URL) রয়েছে, যা ওয়ার্ডপ্রেসে নেই।

এই প্রসঙ্গটি টানার কারণ হল, যারা ব্লগার.কম এ খোলা ব্লগে ওয়ার্ডপ্রেসের মতো পাতা খুলতে চান তাদেরকে বলি আসলে ওয়ার্ডপ্রেসের চাইতেও বেশি সঠিক পাতা ব্লগার.কম এর ব্লগে খোলা যায়। হয়তো ডিফল্টভাবে (Default) পাতা যোগ করার কোন অপশন (Option) নেই। এর কারণ হলো এর কোন প্রয়োজন নেই। কেন তা আমরা একটু পরেই জানবো। কিন্তু ব্লগার.কম এ খোলা ব্লগের যেকোন পাতার যেরকম নিজস্ব ঠিকানা (Unique address) রয়েছে, তেমন তৈরি করা ওয়ার্ডপ্রেসের ব্লগে কোনক্রমেই সম্ভব নয়।

এবার আসুন, আমরা জানি কিভাবে ব্লগার.কম এ খোলা ব্লগে পাতা তৈরি করতে পারি:
আসলে ডিফল্টভাবে ব্লগার.কম এ খোলা প্রতিটি পোস্ট একটি আলাদা আলাদা পাতা / ওয়েব ডকুমেন্ট হিসেবে প্রকাশ হয়। কিন্তু আমরা ইচ্ছে করলে ব্লগার.কম এর পাতার ঠিকানাকে ওয়ার্ডপ্রেসের মতো জটিল করে তুলতে পারি। এটাই আগে একটু শিখে নেই।
ব্লগার.কম এ আপনার আইডি (ID)ও পাসওয়ার্ড (Password) দিয়ে লগইন (Login) করুন। Settings এর Archiving পাতায় চলে যান। সেখানে Enable Post Page লেখার পাশে ডিফল্টভাবে Yes লেখা রয়েছে। ড্রপডাউন মেনু থেকে যদি No নির্বাচিত করি, তাহলে আর ব্লগের কোন পোস্ট পাতা হিসেবে প্রকাশিত হবে না।
উপরের ছবিটি ব্লগার.কম এ খোলা একটি ব্লগের নির্দিষ্ট একটি পোস্ট। কিন্তু ব্রাউজারের এড্রেসবারে (Address Bar) ঠিকানাটি দেখুন কি জটিল? অর্থাৎ এই পোস্টটি কোন এক্সেটনশনযুক্ত ওয়েব ডকুমেন্ট (Web Document) নয়। আমরা Archiving অপশনের Enable Post Page এর পাশে সবসময় Yes দিয়ে রাখবো।
  • এবার নতুন একটি পোস্ট লিখি, যার নাম হয়তো 'About', 'আমার আমি', 'ঘোষণা', 'ডাউনলোড', 'আমার ছবি' ইত্যাদি হতে পারে।
  • যদি ব্লগ টেমপ্লেটে কোন মেনুবার/ ন্যাভিগেশন বার (Menu Bar/ Navigation Bar) থাকে তাহলে সেটাতে, কিংবা Page Eliments পাতায় Add a Gadget ক্লিক করে একটি লিংক লিস্ট (Link List) নেই।
  • এই লিংক লিস্টে প্রয়োজনীয় পোস্টগুলোর পাতার ওয়েব ঠিকানাটি লিখে দেই। এটা হতে পারে এরকম "http://priyoblogs.blogspot.com/2009/07/blog-post.html"
  • অথবা, একটি Text Gadget নিয়ে সেখানে এই পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পোস্টগুলোর লিংক তৈরি করি।
  • যেমন আমি নিচের ছবিতে তৈরি করেছি।
  • এখানে Link to us লেখাটির লিংক হল: http://banglahacks.blogspot.com/2008/11/blog-post_08.html এই পোস্টটি।
  • Archive অপশনে Enable Page Post অংশে Yes নির্বাচিত (Select) করার ফলে পোস্ট পাতাটিতে মন্তব্য (Comment) করার সুবিধা বেশি থাকে।
  • পোস্ট পাতাটির নিচে মন্তব্য ঘর এমবেডেড (Embeded) থাকে।
  • মন্তব্য করার জন্য Post a Comment নামে একটি লিংক (Link) থাকে।
  • কিন্তু যদি Enable Post Page অপশনে No নির্বাচিত (Select) করা থাকে, তাহলে পোস্ট শেষের মন্তব্য করার জায়গাটি সমস্যাসংকুল হয়ে যায়। নিচের ছবিটি দেখুন:
  • এখানে পোস্টের নিচে মন্তব্যগুলি দেখাচ্ছে না। Layout এর Comment অপশনপাতায় Comment Form Placement অপশনে Embedded below post নিস্ক্রিয় হয়ে যায়। শুধু সক্রিয় থাকে Full page এবং Pop-up window, ফলে পোস্টের নিচে কোন মন্তব্য দেখায় না।
  • পাশাপাশি মন্তব্য করার জন্য কোন লিংক লেখা নেই। মন্তব্য করার জন্য মন্তব্যসংখ্যায় (Comment Count) ক্লিক করতে হয়।
  • অতএব নিশ্চয় বোঝা যাচ্ছে যে ব্লগার.কম এ খোলা ব্লগে প্রতিটি পোস্ট পাতার গুরুত্ব কতখানি।
  • তাই ওয়ার্ডপ্রেসের মতো পাতা ব্লগারে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। বরং ব্লগার.কম এর নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের পোস্টপাতাকে বিভিন্ন পদ্ধতিতেই ব্যবহার করা সম্ভব। তা সে ওয়ার্ডপ্রেসের তথাকথিত পাতাই বলুন আর যাই বলুন।
এই পোস্টের বিভিন্ন ছবিগুলি নেয়া হয়েছে 'প্রিয়Blogs' ব্লগ থেকে।

কিভাবে গ্রুপ ব্লগিং করা যায়?

টাইটেলের (Title) নাম হয়তো হতে পারতো, "আপনার বন্ধুকে আপনার ব্লগের সদস্য করবেন কিভাবে?" কিংবা "ব্লগে নতুন লেখক যোগ করবেন কিভাবে?" তাহলে হয়তো আজকের পোস্টের বিষয়ের নামটি অধিক যুক্তিযুক্ত হতো। কিন্তু আসলে বিষয়টি মূলত 'গ্রুপ ব্লগিং' (Group Blogging)। হ্যাঁ বন্ধুরা, আজ আমি যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো, তার নাম দেয়া যেতো "কিভাবে গ্রুপ ব্লগ খুলতে হয় (Group Blog)" বা "কিভাবে গ্রুপ ব্লগিং করতে হয়" কিংবা 'গ্রুপ ব্লগিং করার পদ্ধতি' ইত্যাদি।' আসলে গ্রুপ ব্লগ (Blogging) বলতে সাধারণত এমন একটি ব্লগকে বোঝায় যেখানে একই মতাদর্শের বা একই মানসিকতার কয়েকজন বা অনেকে মিলে লেখালেখি করেন। এই ধরণের ব্লগে সদস্য সংখ্যা একের অধিক (More then one) হয়ে থাকে। বাংলা ভাষায় এ ধরণের ব্লগিং এর চর্চা অনেক আগে থেকেই চলে আসছে। সামহোয়ার ইন ব্লগ (Somewhereinblog), সচলায়তন (Sachalayatan), আমার ব্লগ (Amarblog.com), প্রথম আলো (Prothom alo blog), ক্যাডেট কলেজ ব্লগ (Cadet college blog), মুক্তমনা (mukto-mona), টেকটিউনস (Techtunes), কম্পিউটার এন্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইত্যাদি ব্লগসাইটগুলো (Blog site) এই গ্রুপ ব্লগিং এর ধারণাটাকে বহন করে চলেছে (ক্যাডেট কলেজ ব্লগটি কিন্তু প্রথমে ওয়ার্ডপ্রেসের (Wordpress.com) ফ্রি ব্লগ দিয়েই শুরু হয়েছিল)।

উপরেরর ব্লগ সাইটগুলো নিজেদের নিজস্ব ডোমেইন নিয়ে তৈরি করা। কিন্তু আপনি ইচ্ছে করলে ওয়ার্ডপ্রেস বা ব্লগার.কম (Blogger.com) এর ব্লগেও গ্রুপ ব্লগিং বা একাধিক সদস্য নিয়ে লেখালেখি করতে পারেন। এটা বিভিন্নভাবে হতে পারে। বন্ধুদের (Friends) মধ্যে কয়েকজন মিলে, একই স্কুল-কলেজের (School-College) বা ক্লাশের কয়েকজন (Class mate) মিলে, একই রাজনৈতিক মতাদর্শের (Same political view) কয়েকজন মিলে, পাড়ার বা স্থানীয় কয়েকজন মিলে কিংবা পরিবারের কয়েকজন মিলে এই ধরণের ব্লগিং করতে পারেন। কিংবা স্থানীয় কোন পত্রিকাও এভাবে প্রকাশ হতে পারে। যেখানে সাংবাদিকরা সবাই সেই পত্রিকার সদস্য (Blog member) হবেন এবং যেখানে সংবাদ পাবেন, সেখান থেকেই তা পোস্ট আকারে প্রকাশ করবেন। ব্লগার.কম -এ কোন রকমের ঝামেলা ছাড়াই এই ধরণের গ্রুপ ব্লগিং খুব সহজে করা সম্ভব। বাংলা ভাষায় এমন একটি গ্রুপ ব্লগ হল 'Voice of Bangladeshi Bloggers" । এখানে সদস্য রয়েছেন মোট ১৩ জন, তবে ইদানীং খুব কম লেখা এই ব্লগের ব্লগাররা (Blogger) লিখছেন। আর ইংরেজি (English) ভাষায় এরকম একটি জনপ্রিয় (Popular) গ্রুপ ব্লগ হল 'World United Bloggers', এই ব্লগটিতে নিয়মিত সামাজিক (Social), রাজনৈতিক (Political), আঞ্চলিক (Local), আন্তর্জাতিক ((International) বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করা হয়। বিশ্বের একাধিক দেশের ব্লগাররা এই ব্লগের সদস্য (কিন্তু বাংলাদেশের কেউ নেই)। তাদের ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে নিজের মন্তব্য বা পক্ষপাত (Support) তারা জোড়ালোভাবে প্রকাশ করেন। সক্রিয়ভাবে (Actively) দেশ ও দশের পক্ষে নিজের মতকে প্রকাশ করেন।

বাংলা ভাষায় নিজস্ব ডোমেইনের (Own Domain) গ্রুপ ব্লগিং যতটা জনপ্রিয়, ফ্রি প্লাটফরমের (Free Platform) গ্রুপ ব্লগ সেখানে ততোটা নেই বললেই চলে। কেন নেই, সেটা ভাবতেই খারাপ লাগে। নিজস্ব ডোমেইন থাকার অহংকার থেকে কি? যা হোক, ব্লগারে কিভাবে গ্রুপ ব্লগিং করবেন, আজ আমি তা আলোচনা করবো।

উপরের ছবিটি দেখুন। আপনার ব্লগে ড্যাশবোর্ডে (Dashboard) লগইন (Login) করে সেটিংস (Settings)বোতামে ক্লিক করুন। একেবারে ডানপাশে রয়েছে Permissions নামে একটি লিংক বোতাম (Link button) (নীল রঙের গোল দাগ চিহ্নিত)। এখানে ক্লিক (Click) করুন। ব্লগের লেখক (Blog author/ writer) কে বা কারা সে সম্পর্কিত একটি জায়গা আসবে। এখানে ADD AUTHORS লেখাতে ক্লিক করলে নিচে একটি সাদা বক্স (White text box) খুলে যাবে, সেখানে (ছবিতে নীল রঙের আয়তাকার দাগ চিহ্নিত) যাদেকে আপনার ব্লগের লেখক হিসেবে গ্রহণ করতে চান, তাদের ইমেইল ঠিকানা লিখে দিন। এখানে আপনার ইমেইল একাউন্টের (Email Account) মাধ্যমে যাদের মেইল এড্রেস আপনার কাছে রয়েছে তাদের মধ্য থেকেও লেখককে বেছে নিতে পারবেন। আপনি একবারে (At once) একাধিক বন্ধুকে আমন্ত্রণ পাঠাতে পারবেন। শুধু প্রত্যেকের ইমেইল আইডির (Email ID) পরে একটা করে কমা বসিয়ে দিতে হবে। কোন স্পেস দিতে হবে না। এবার INVITE লেখা বোতামে ক্লিক করুন। প্রত্যেকের কাছে আমন্ত্রণ পৌছে যাবে।
আমন্ত্রিত (Invited) লেখক-বন্ধুদের ইমেইল ইনবক্সে (Email inbox) উপরের ছবির মতো একটি আমন্ত্রণপত্র (Invitation) পৌঁছে যাবে। তারা যদি আপনার ব্লগের সদস্যপদ (Membership) গ্রহণ করতে চায়, তাহলে লিংকটিতে ক্লিক (Click) করতে হবে। অর্থাৎ এর মাধ্যমে তিনি আপনার আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন, তিনি সম্মতি প্রদান (Accept invitation) করলেন। এবার তার ব্রাউজারে (Browser) নিচের ছবির মতো একটি পেজ আসবে।

এই পেজে (Page) আপনার লেখক বন্ধুকে তার নিজের গুগল একাউন্ট (Google Account) দিয়ে লগইন (Login) করতে হবে। যদি তাঁর কোন গুগল একাউন্ট না থাকে তাহলে এখানেই তিনি একটি গুগল একাউন্ট তৈরি করে নিতে পারবেন। গুগল আইডি, পাসওয়ার্ড (Password) দিয়ে ACCEPT INVITATION বোতামে ক্লিক করলে তিনি ব্লগারের ড্যাশবোর্ডে (Blogger Dashboard) প্রবেশ করতে পারবেন। সেখানে তিনি তার নিজের অন্যান্য ব্লগের সাথে নতুন সদস্য হওয়া ব্লগটিকেও দেখতে পারবেন।

এবার একটি বিশেষ বিষয় আলোচনা করি। মনে করি, আপনার ব্লগে আপনিসহ দু'জন ব্লগার আছেন। এর মধ্যে অন্যজনের ভূমিকা কি হবে- তা কিন্তু আপনাকেই নির্ধারণ করতে হবে। অর্থাৎ অন্যজন কি আপনার ব্লগের শুধু লেখক (Author) হবেন, নাকি তিনি এই ব্লগের এডমিন (Admin) হবেন। এডমিন হলে এই ব্লগের উপর আপনার মতো তাঁর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। আর যদি শুধু লেখক হন, তাহলে তিনি শুধুমাত্র স্বল্প কিছু সুবিধা পাবেন। নতুন পোস্ট লিখতে পারবেন, আর নিজের পুরনো পোস্টগুলোকে সম্পাদনা (Edit) করতে পারবেন। এডমিনের মতো ব্লগের ডিজাইন বা টেমপ্লেট (Blog Design/ template) পাল্টাতে পারবেন না, নাম পরিবর্তন করতে পারবেন না, নতুন লেখক যোগ করতে পারবেন (Add new writer) না কিংবা অন্যদের লেখা পোস্টগুলোকেও সম্পাদনা (Edit) করতে পারবেন না। নিচের ছবিটি আপনার লেখক বন্ধুর ড্যাশবোর্ড (Dashboard)।
লেখক বন্ধু তার ব্লগার একাউন্টে (Blogger account) লগইন (Login) করলে উপরের ছবির মতো চিত্র দেখতে পারবেন। এই ড্যাশবোর্ড থেকে তিনি অবশ্য নিজে নতুন পোস্ট লেখা, নিজের পুরনো লেখা সম্পাদনাসহ আপনার ব্লগ থেকে নিজেকে বিমুক্ত (Remove self) বা মুছে ফেলতে (Delete) করতে পারবেন।
আর, আপনি যখন লগইন করবেন, তখন Settings এর Permission ঘরে উপরের ছবির মতো লেখকের তালিকা দেখতে পারবেন। এখানে আপনার নাম ও ইমেইল আইডির পাশে Admin লেখা আছে, আর লেখকের নাম ও ইমেইল আইডির পাশে Author লেখা আছে। লাল রঙের দাগ চিহ্নিত লেখা অর্থাৎ Grant Admin Privileges লেখাতে ক্লিক করে আপনি লেখককে এডমিনের অধিকার দিতে পারবেন। আর নীল রঙের দাগ চিহ্নিত অংশে লেখা Remove এ ক্লিক করে লেখককে আপনার ব্লগ থেকে বাদ দিতে/ বহিষ্কার/ বাতিল করতে পারবেন। লাল রঙের দাগ চিহ্নিত লেখাতে ক্লিক করে আপনার ব্লগের লেখক বন্ধুকে এডমিন অধিকার দেবার আগে আর একবার চিন্তা করে নেবেন। কারণ তিনি ইচ্ছা করলে আপনার প্রিয় ব্লগটিকে একেবারে মুছে ফেলতে পারবেন। আর আপনি তা ফেরত পাবেন না।

এখানে উল্লেখ্য যে, ওয়ার্ডপ্রেসের (Wordpress.com) ব্লগেও আপনি একাধিক লেখক যোগ করতে পারবেন। ব্লগার.কম (Blogger.com) এ যেখানে ব্লগের সদস্যদের মধ্যে দুইরকম অধিকার নির্দিষ্ট করা যায়, সেখানে ওয়ার্ডপ্রেস.কম এ আরও একটি সক্রিয়তা অর্থাৎ 'সম্পাদক' (Editor) নামে একটি পদ বন্টন করা যায়। ওয়ার্ডপ্রেসে খোলা গ্রুপ ব্লগের লেখকরা নিজে লিখতে পারেন, কিন্তু অন্যদের লেখা সম্পাদনা করতে পারেন না। 'সম্পাদক'রা ব্লগের কাঠামোগত পরিবর্তন (Can't edit design) করতে পারেন না, কিন্তু অন্যদের লেখা সম্পাদনা করতে পারেন। আর এডমিন (Edmin) তো সর্বময় ক্ষমতা অধিকারী রয়েছেনই। তবে ওয়ার্ডপ্রেস.কম বাংলাদেশের ইন্টারনেট (Internet) লাইনের প্রেক্ষিতে খুবই কম গতিসম্পন্ন হওয়ায় ব্যবহার করা খুব কঠিন। তাই ওয়ার্ডপ্রেসের কোন টিউটরিয়াল (Tutorial) দিতে পারলাম না। তবে বিষয়টি ওয়ার্ডপ্রেসে একই। সেখানেও ইউজার ঘরে গিয়ে নতুন লেখক যোগ করা, কাকে কোন অধিকার দেবেন, তা নির্দিষ্ট করা ইত্যাদি কাজগুলো করতে হয়।

প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে, ওয়ার্ডপ্রেস কিংবা ব্লগার.কম এ ১০০ জনেরও বেশি লেখককে একটি ব্লগে যোগ করা সম্ভব।

আশা করি ব্লগার.কম (Blogger.com) এর ব্লগে নতুন লেখক/ সদস্য যোগ করার নিয়ম আমি সঠিকভাবে প্রকাশ করতে পেরেছি। প্রত্যাশা করি নিজস্ব ডোমেইনের অহংকার নয়, ফ্রি ব্লগ প্লাটফরমেই গ্রুপ ব্লগিং বাংলাদেশে জনপ্রিয়তা পাবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রামভিত্তিক, পাড়াভিত্তিক, স্থানীয় ক্লাবভিত্তিক, সাহিত্য/ বিজ্ঞান সংগঠন ভিত্তিক গ্রুপ ব্লগিং এর ধারণাটা পরিচিত হয়ে উঠবে।

ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারকারির সেটিংস পরিবর্তন

গত পোস্টে আমরা ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগের সার্বিক সেটিংস (Settings) কিভাবে পরিবর্তন (Change) করা যায়, সে সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেছি। আজ আমরা জানবো কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেসের ব্যবহারকারি সেটিংস (User Settings) পরিবর্তন করা যায়।

ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগে লগইন (Login) করে খেরোখাতা (Dashboard) বাটনে প্রেস (Press/ click) করলে যে অংশে আপনি প্রবেশ করবেন, তার ডানপাশের (Right side) কোণায় Users লেখা রয়েছে। এখানে ক্লিক (Left Click) করলেই আপনি পৌঁছে যাবেন ব্যবহারকারি সেটিংস (Settings) অংশে। এখানে আপনি ব্লগের ব্যবহারকারী (Blog User) সম্পর্কে বিভিন্নরকম কারিগরি (Technical) পরিবর্তন করতে পারবেন।

সাধারণত একটি ব্লগ একাই লেখা হয়। কিন্তু অনেক সময় এমন হতে পারে যে একটি ব্লগের লেখক একাধিক একে গ্রুপ ব্লগিং বলে (Group Blogging)। কোন একটা নির্দিষ্ট বিষয়ে বা কোন একটি সমিতি (Society) বা সংগঠনের (Party) ব্যক্তিবর্গ একটি ব্লগকে কেন্দ্র করে তাদের প্রতিদিনের লেখালেখি চর্চা চালিয়ে থাকেন। এটা রাজনৈতিক (Politics), সামাজিক (Social) বা সাহিত্যকেন্দ্রিক (Literature) যে কোন রকমের হতে পারে। আমরা আগেই জেনেছি যে যদি আপনি আপনার ব্লগকে হিডেন (Hidden) করে রাখেন অর্থাৎ শুধুমাত্র আমন্ত্রিত (Invited) লেখক বা পাঠকদের জন্য ব্লগ উন্মুক্ত থাকে সেক্ষেত্রে ৩৫ জনেরও বেশি ব্যবহারকারিকে একইসঙ্গে ওয়ার্ডপ্রেস (Wordpress) নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু যদি আপনি ব্লগকে উন্মুক্ত (Open) রাখেন, সেক্ষেত্রে একইসঙ্গে ১০০ জনেরও বেশি ব্যবহারকারিকে ওয়ার্ডপ্রেস সেবা প্রদান করতে পারে।

Users অংশে প্রবেশ করলে আপনি প্রথমত:
* Authors & Users
* Your Profile
* Invites

এই তিনটি অপশন (Option) পাবেন। এখানে আপনি প্রথমে কাজ করবেন Authors & Users অংশে।

Authors & Users

(*) Manage Users:
এই অংশের প্রথমে রয়েছে All Users, এখানে আপনার ব্লগের লেখক (Writer/ Contributor) ও প্রশাসকদের (Administrator0 একটি তালিকা প্রদর্শন করা হবে। যদি আপনিই একমাত্র লেখক হন, তাহলে শুধু আপনার নামই এখানে প্রশাসক (Administrator) হিসেবে প্রদর্শিত হবে। কিন্তু যদি আপনার ব্লগের লেখক একাধিক হয়, ধরি ৩ জন, তাহলে এখানে কে প্রশাসক, কে সম্পাদক (Editor) আর কে লেখক তাদের তালিকা বিস্তারিত তথ্যসহ প্রদর্শিত হবে।
দ্বিতীয় অংশে রয়েছে Administrator (1), এখানে পাশের সংখ্যাটি দিয়ে ব্লগের প্রশাসক সংখ্যাকে বোঝানো হয়েছে। আপনার ব্লগে যতজন প্রশাসক থাকবেন ততজনের তালিকা এই অংশে দেখানো হবে।

(*) Add User From Community: ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগ ব্যবহার করে এমন পরিচিত কাউকে আপনি এখান থেকে ব্লগের সদস্য করে নিতে পারেন। User E-Mail: অংশে ব্যবহারকারির ইমেইল লিখুন আর নিচের Roll অংশে তার ভূমিকা কি হবে অর্থাৎ তিনি এই ব্লগের প্রশাসক, সম্পাদক নাকি শুধুমাত্র লেখক হিসেবে ভূমিকা পালন করবেন তা নির্বাচন করুন। এরপর Add User বাটনে ক্লিক করে তাকে এই ব্লগের সদস্য হিসেবে গ্রহণ করুন।

* Your Profile: এই অংশে যিনি ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগে লগইন করেছেন তার প্রোফাইল (Profile) পেজের নানারকম খুঁটিনাটি বিষয় পরিবর্তন করা যাবে।

Personal Options:
এই অংশের Visual Editor অংশটিকে ডিফল্ট রেখে দিন। কোনরকম পরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই। এই অংশের ডানপার্শে রয়েছে ছবি নির্বাচন করার অংশ। এখানে Browse বাটনে ক্লিক করে কম্পিউটারের হার্ডডিস্কে থাকা আপনার ছবিটিকে দেখিয়ে দিন। এরপর Upload Image বাটনে ক্লিক করে ছবিটিকে আপলোড করুন। সাধারণত ১০০ বর্গ পিক্সেলের ইমেজ ফাইল গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। কিন্তু ছবিটি যদি প্রত্যাশিত মাপের চেয়ে বড় হয় তাহলে তা পাশের ছবির মতো করে কাটার অপশন আসবে। প্রয়োজনীয় অংশটুকু নির্বাচন করে Crop Image বাটনে ক্লিক করে নিন।

Admin Color Scheme: এই অংশে আপনি ব্লগের ড্যাশবোর্ডের জন্য পুরনো রঙের স্টাইল কিংবা নতুন রঙের স্টাইল পছন্দ করতে পারেন।

Browser Connection: এখানে যদি আপনি যখন লগইন করবেন তখন যদি অধিক নিরাপত্তা (Security) চান তাহলে টিকচিহ্ন দিয়ে দিন। স্বাভাবিকভাবেই ওয়ার্ডপ্রেস আপনার একাউন্টের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তারপরও যদি আপনার মনে কোনরকম সন্দেহ থাকে (যেমন সাইবার ক্যাফেতে (Cybercafe) লগইন করলে বা পিসিতে ভাইরাস (Virus), স্প্যামওয়ার (Spam ware) থাকলে) তাহলে এই অংশের পাশের বক্সে টিকচিহ্ন দিয়ে দিন।

Interface Language: আপনি ওয়ার্ডপ্রেসের এডমিনিস্ট্রেশন প্যানেলের তথা ড্যাশবোর্ডের (Dashboard) বাক্যগুলো কোন ভাষায় (Language) দেখতে চান তা এখানে নির্বাচন করুন। ড্রপডাউন বাটনে ক্লিক করলে অনেকগুলো ভাষা দেখা যাবে। সেখান থেকে আপনি বাংলা (Bangla) বা ইংরেজি (English) বা নিজের প্রয়োজনমতো যে কোন একটি ভাষা নির্বাচন করতে পারবেন।
Primary Blog: যদি আপনার একাধিক ব্লগ থাকে তাহলে প্রাথমিক ব্লগ হিসেবে আপনার নামের পাশে কোন ব্লগের ঠিকানা প্রদর্শিত হবে তা এখানে দেখা যাবে।

এরপরে রয়েছে Name:
এখানে আপনার ব্লগের রেজিস্ট্রেশনের (Registration) সময় যে নাম দিয়েছিলেন তাই Username হিসেবে প্রদর্শিত হবে। এটাকে আপনি পরিবর্তন (Change) করতে পারবেন না, এই নামটি দিয়েই আপনাকে ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগে (Wordpress) লগইন করতে হবে। কিন্তু যদি এই নামটি আপনি প্রদর্শন করতে না চান, তাহলে Nickname অংশের নামটি পরিবর্তন করে দিন। এছাড়াও আপনি আপনার নামের প্রথম অংশ ও শেষের অংশ এখানে দিয়ে দিতে পারেন। Save করার পর Display name publicly as অংশে যে নামটি আপনি প্রকাশ্যে প্রদর্শন করতে চান, তা নির্বাচন করে আবারো সেভ করুন।

Contact Info:
এই অংশে আপনার ইমেইল এড্রেস (Email Address), ওয়েবসাইট (Website), এবং বিভিন্ন চ্যাটিং সার্ভিসে (Chating Service) যে নামে আপনি পরিচিত তা লিখে দিতে পারেন। এতে ইয়াহু ম্যাসেঞ্জার (Yahoo messenger) বা গুগল টকে (Google Talk) আপনাকে খুঁজে পাওয়া অন্যদের জন্য সহজ হবে।

About Yourself:
এখানে আপনার সম্পর্কে সামান্য কিছু তথ্য (Information) জনগণকে জানাতে পারেন। আপনার বিবরণ যা আপনি অন্যদেরকে জানাতে চান, তা Biographical info অংশের পাশের ফাঁকা টেক্সটবক্সে (Text Box) লিখে দিন।

New Password:
এইখানে আপনি ব্লগের লগইন পাসওয়ার্ডটি (password) পরিবর্তন করতে পারেন। প্রথমে একটি পাসওয়ার্ড লিখুন, তারপর একই পাসওয়ার্ডকে আবারো নিচের অংশে লিখুন। পাসওয়ার্ডটি কতটুকু শক্তিশালী (Strong) হয়েছে তা নিচের মিটারে প্রদর্শিত হবে।

সবশেষে Update Profile বাটনে ক্লিক করে আপনার যাবতীয় পরিবর্তনগুলো সংরক্ষণ করে নিন।

ওয়ার্ডপ্রেসের ইউজার সেটিংস অংশের তৃতীয় অংশ হলো Invites:
এই অংশের মাধ্যমে ওয়ার্ডপ্রেসের ব্যবহারকারী নয় এমন যে কাউকে আপনি ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগ ব্যবহার করতে আমন্ত্রণ জানাতে পারবেন।
এই অংশের নিচে দেখুন ২টি বিষয় আছে যা আপনি আমন্ত্রণ (Invitation) জানানোর আগে টিকচিহ্ন দিয়ে নির্বাচিত করে দিতে পারবেন।
(১) যাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন, তিনি যদি এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে ওয়ার্ডপ্রেস.কম (Wordpress) এ একটা ব্লগ (Blog) খুলে ফেলে তাহলে তাঁর ব্লগটির ওয়েব ঠিকানা (Web Address/ URL) স্বয়ংক্রিয়ভাবে (Automatic) আপনার ব্লগরোলে (Blog roll) জায়গা পেয়ে যাবেন।
(২) যাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন, তিনি যদি ওয়ার্ডপ্রেসের সদস্য হন অর্থাৎ রেজিস্ট্রেশন করেন তাহলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার ব্লগের একজন লেখক/ সহায়তাকারী সদস্য হয়ে যাবেন।
# যদি আপনি এই দুটোর কোনটাই না চান তাহলে টিকবক্সে টিকচিহ্ন দিয়ে দেয়ার দরকার নেই।
শেষে Send Invite বাটনে ক্লিক করে তাকে আমন্ত্রণ জানান।

ওয়ার্ডপ্রেসের সেটিংস বাটন

এ কয়দিনে আমরা ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগের ড্যাশবোর্ড বা খেরোখাতার বিভিন্ন বাটন সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু তথ্য জেনেছি। আজকে আমরা ব্লগের বিভিন্ন সেটিংস কিভাবে পরিবর্তন করা যায় সেবিষয়ে আলোচনা করবো।

ব্লগের ড্যাশবোর্ডে (Dashboard) প্রবেশ করে ডানপার্শ্বের কর্ণারের দিকে তাকালে Settings লেখা দেখতে পাবেন। সেটিংস (Settings) লেখাটির উপরে ক্লিক (click) করলে উপরের ছবির মতো পেজ ওপেন হবে। এখানে আপনি বিভিন্নরকম বিষয়ের সেটিংস পরিবর্তন করতে পারবেন। আপনি যা যা করতে পারবেন, সেগুলো হলো:
* General
* Writing
* Reading
* Discussion
* Privacy
* Delete Blog
* Media
* OpenID
* Domains
এর মধ্যে প্রথমে রয়েছে


(*) General: প্রাথমিকভাবে এটাই আপনার প্রধান সেটিংস এর বিষয়। এই জেনারেল অংশে আপনি আপনার ব্লগের নাম (Blog Title), ব্লগের বর্ণনা (Tagline), ভাষা (Language), আপনার ইমেইল এড্রেস (E-mail address), আঞ্চলিক সময় (Timezone), তারিখ দেখানোর পদ্ধতি (Date Format), সময় দেখানোর পদ্ধতি (Time Format), কি বারে সপ্তাহ শুরু হবে (Week Starts On) -- এসব পরিবর্তন করতে পারবেন।
# ইমেইল এড্রেস (Email Address) পরিবর্তন করার সময় মনে রাখতে হবে যে, আপনার দেয়া নতুন ইমেইল এড্রেস একটি কনফার্মেশন (Confirmation) চিঠি যাবে। সেই চিঠির একটিভ (Active) অংশে ক্লিক (Click) করে নতুন ইমেইল এড্রেসটিকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
# আঞ্চলিক সময় হলো আন্তর্জাতিক সময় (International Time Zone) বোঝানোর জন্য একটি পদ্ধতি। গ্রিনউইচ মিন টাইম (GMT) থেকে পৃথিবীর সবকটি দেশ নির্দিষ্ট কিছু সময় দূরত্বে অবস্থান করে। সে অনুযায়ী বাংলাদেশের সময় হলো ৬ ঘন্টা এগিয়ে। অতএব আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে ব্লগিং করেন, তাহলে এই অংশে UTC+6 নির্বাচিত করতে হবে।
# প্রয়োজনীয় পরিবর্তনগুলো Save বাটনে ক্লিক করে সেভ করে নিতে হবে।

(*) Writing: এই অংশে আপনি ব্লগ লিখতে গিয়ে বেশ কিছু সুবিধা কিভাবে পাবেন তা নির্ধারণ করতে হবে। যেমন: Size of the post box -এটা হলো পোস্ট লেখার যে বক্স তার আকার পরিমাপের জায়গা। ডিফল্ট হিসেবে ১০ দেয়া থাকে।
Formatting- এখানে ২টি অপশন (Option) আছে। কোন ইমোটিকন (Imoticon) টাইপ করলে তা ইমেজ/ গ্রাফিকস (Image/ Graphics) হিসেবে দেখাবে, নাকি টেক্সট (Text) হিসেবে দেখাবে তা নির্ধারণ করে দিতে পারবেন। এবং টাইপ (Type) করতে গিয়ে কোন ওয়ার্ডপ্রেস (Wordpress) সাপোর্ট (Support) করেনা এমন কোন কোড টাইপ করলে যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে (Automatic) তা ঠিক হয়ে যায়, তা নির্ধারণ করতে পারবেন।
Default Post Category- কোন পোস্ট লিখলে তা ডিফল্ট হিসেবে কোন বিভাগে যাবে তা এখান থেকে নির্ধারণ করুন।
Default Link Category- কোন লিংকের ডিফল্ট বিভাগ কি হবে তা এখান থেকে নির্ধারণ করে দিতে পারবেন।

(*) Reading: আপনার ব্লগের পাঠকরা কিভাবে আপনার ব্লগটিকে পড়বে তা এখান থেকে পছন্দ করতে পারবেন।
Front page displays: আপনি ইচ্ছে করলে ওয়েব সাইটের (Web Site) মতো একটি মাত্র পেজকে (Page) ব্লগের প্রচ্ছদ (Cover) হিসেবে সিলেক্ট করতে পারেন। কিংবা ব্লগটিকেই প্রধান পেজ হিসেবে প্রদর্শন করতে পারেন।
Blog pages show at most: মোট কতটি পোস্টকে একবারে প্রথমে দেখাতে চান, তা নির্বাচন করতে পারবেন এখান থেকে।
অন্যান্যগুলোতে আপনার কিছু করার নেই। ডিফল্ট হিসেবে যা আছে, তাকে অবিকৃতভাবে রেখে দেয়াই শ্রেয়। তবে 'Encoding for pages and feeds' অংশে 'UTF-8' লেখা থাকতে হবে, যদি আপনি ব্লগটি বাংলাতে লিখে থাকেন।

(*) Discussion Settings: এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সেটিংস। এই অংশের কমান্ডগুলোর মাধ্যমে আপনি আপনার ব্লগটি একাধিক নিরাপত্তা, উপযোগীতা ইত্যাদি ঠিক করে দিতে পারবেন।
Default article settings- এখানে তিনটি অপশন রয়েছে। সবকটি সিলেক্ট অবস্থায় থাকা উচিত।
প্রথমটির মাধ্যমে কোন ব্লগে যদি আপনার লেখাটির লিংক থাকে তা নিয়ে সতর্ক বার্তা প্রদর্শন করবে কি করবেনা তা নির্দিষ্ট করতে পারবেন।
দ্বিতীয়টির মাধ্যমে অন্য ব্লগ থেকে আপনার ব্লগের কোন পোস্টকে পিং (Ping) করবে কি না কিংবা কেউ আপনার পোস্টকে সূত্র হিসেবে (Trackback) ব্যবহার করেছে কি না তা জানানোর সুবিধাটা উন্মুক্ত রাখতে পারবেন।
তৃতীয়টির মাধ্যমে আপনার ব্লগে কেউ কোন মন্তব্য (Comment) করতে পারবে কি না তা ঠিক করতে পারবেন।
Other comment settings- এখানে অন্যের করা মন্তব্য নিয়ে আরও কিছু বিষয় নির্বাচন করতে পারবেন। যেমন:
# অন্যরা মন্তব্য করার সময় অবশ্যই নাম (Name) ও ইমেইল (Email Address) দিবে কি দিবে না।
# কাউকে মন্তব্য করার জন্য সদস্য হয়ে লগইন (Login) হতে হবে কি হবে না।
# এত দিনের পুরনো পোস্টে মন্তব্য করতে দেবেন কি দেবেন না-- এইসব বিষয় Other comment settings অংশ থেকে নির্বাচন করুন।
E-mail me whenever- এখানে ২টি অপশন রয়েছে। সাধারণভাবে দুটোই টিকচিহ্ন দেয়া থাকে।
প্রথমটি হলো: কেউ যদি আপনার পোস্টে মন্তব্য করে তাহলে আপনাকে ই মেইল করে জানাবে।
আর দ্বিতীয়টি হলো: কোন মন্তব্য যদি প্রকাশিত না হয়ে সম্পাদনার (Moderation) জন্য অপেক্ষমান থাকে তাহলেও আপনাকে ই মেইল করে জানানো হবে। দুটো অপশনই প্রয়োজনীয়। তাই দুটোতেই টিকচিহ্ন থাকা নিশ্চিত করুন।
Before a comment appears - কোন মন্তব্য প্রকাশিত হবার আগে ২ রকম নিয়ম ঠিক করতে পারবেন এই অংশ থেকে।
প্রথমত: কোন এডমিনিস্ট্রেটরের (Administrator) অনুমতি পাওয়ার পরই মন্তব্য প্রকাশিত হবে।
দ্বিতীয়ত: কারও আগে করা কোন মন্তব্য যদি আপনি প্রকাশ করে থাকেন, তাহলে তাকে বিশ্বাসী (Trust) মন্তব্যকারী হিসেবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মনে করা হবে। আপনি নিজে যে নিয়মটি পছন্দ করেন, তা এখানে টিকচিহ্ন দিয়ে নির্বাচন করুন।
Comment Moderation- এই অংশটি আপনার ব্লগের নিরাপত্তা ও শালীনতা রক্ষার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কোন স্প্যাম মন্তব্য এখান থেকে অনায়াসে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। সাধারণত পুরনো কোন পোস্টে স্প্যাম (Spam) মন্তব্য (Comment) থাকলে তা নিজে থেকে মুছে ফেলা (Delete) হয়। কিন্তু আপনি যদি Don’t discard spam on old posts লেখাটির বামপাশের টিকচিহ্নটি দিয়ে দেন, তাহলে তা আর হবে না। অর্থাৎ থেকে যাবে।
অনেক সময় অনেকে শুধুমাত্র নিজের ব্লগ বা কোন পণ্যের বিজ্ঞাপন (Advertise) করার জন্য আপনার ব্লগে মন্তব্য করতে পারে। সেটাও আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। কোন মন্তব্যতে ২টির বেশি (বা আপনার যা ইচ্ছা) লিংক থাকলে তাকে স্প্যাম মন্তব্য হিসেবে সন্দেহ করার সুবিধাটা এখান থেকে পেতে পারেন। কেউ যদি বারবার আপনার ব্লগে বাজে মন্তব্য করতে থাকে, তাহলে তার আইপি এড্রেস (IP Address), সেই বাজে শব্দ (Slang/ Adult word), নাম (name), ইমেইল (Email) ঠিকানা ইত্যাদি ফিল্টার (Filter) করুন এই Comment Moderation ও Comment Blacklist অংশ থেকে। নিচের ফাঁকা টেক্সট বক্সে আলাদা আলাদা লাইনে আপনার ফিল্টারকৃত শব্দ বা নাম বা আইপি এড্রেসগুলো লিখুন।
# মনে রাখতে হবে যে আপনি যে শব্দটাকে মন্তব্য হিসেবে অগ্রহণযোগ্য মনে করছেন, তা কোন বড় শব্দের অংশ হলেও তাকে ব্লক করা হবে ও মডারেশনের সারিতে ফেলে রাখা হবে। ধরি 'যৌন' শব্দটিকে আপনি ব্লক করেছেন। এখন যদি কেউ 'যৌনশিক্ষা' শব্দটি লিখে, তাহলে তাকেও আটকে ফেলা হবে।
মন্তব্য ঘরে অবতার দেখাবে কি দেখাবে না বা দেখালেও কেমন দেখাবে তা Avatars নামক অংশ থেকে নির্দিষ্ট করে দিতে পারবেন। অবতার কি এবং কেন ব্যবহার করা হয়, তা নিয়ে ভবিষ্যতে একটি পোস্ট লিখব এই প্রত্যাশা করি।

(*) Privacy: আপনার ব্লগটিকে কি আপনি শুধুমাত্র নিজের পছন্দের মানুষদেরকে দেখাতে চান নাকি বিশ্বের সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে চান তা এই Privacy অংশ থেকে সিলেক্ট করতে হবে। আপনি ৩৫ জনেরও বেশি বিশ্বাসী ব্যক্তিদেরকে এই ব্লগ নিভৃতে দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে পারবেন।
আপনার ব্লগটিকে সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে সহজে যেন খুঁজে পাওয়া যায় কিংবা সার্চ ইঞ্জিনের তালিকায় যেন আপনার ব্লগ না থাকে, এমন দুটো সিদ্ধান্তের মধ্যে যে কোনটাকে বেছে নিতে পারবেন এই অংশ থেকে।

(*) Delete Blog: ব্লগিং করতে গিয়ে কোন এক সময়ে এমন হতে পারে যে আপনি আর আপনার ব্লগটিকে রাখতে চাচ্ছেন না। এরকমটা নানা কারণে হতে পারে। ভুল এড্রেস, এড্রেসের বানান ভুল, হুমকি, অনিচ্ছা ইত্যাদি কারণে হয়তো ব্লগটিকে আপনার মুছে ফেলতে হতে পারে। যদি শেষ পর্যন্ত ব্লগটিকে আপনার মুছে ফেলতে হয়, তাহলে তা করতে পারবেন এই * Delete Blog অংশ থেকে। মনে রাখবেন, এই ব্লগএড্রেসটি কিন্তু আর কারও জন্য উন্মুক্ত থাকবে না। যদি অলসতার কারণে আর ব্লগ লিখতে না ইচ্ছা করে, তাহলে ব্লগটি মোছার দরকার নেই। আপনার নেয়া সুন্দর ঠিকানাটি অন্য কেউ যদি নিতে চায়, তাহলে তা তাকে দিয়ে দিন। (কিভাবে দেবেন, তা পরবর্তিতে আলোচনা করবো।) কিন্তু ব্লগের নামটি যদি আপনার একান্ত ব্যক্তিগত হয়, তাহলে হয়তো আর কাউকে তা ব্যবহার করতে দিতে চাইবেন না। সেক্ষেত্রে "I'm sure I want to permanently disable my blog, and I am aware I can never get it back or use banglablogtips.wordpress.com again." পাশে টিক চিহ্ন দিয়ে 'Delete My Blog Permanently' লেখাটির উপরে ক্লিক করুন। আপনার ইমেইল এড্রেসে একটি কনফার্মেশন ই মেইল যাবে। সেখানে দেয়া কনফার্মেশন লিংকে ক্লিক করার পর আপনার ব্লগটি মুছে ফেলা হবে। এই ঠিকানা আর কেউ কখনও ব্যবহার করতে পারবে না।

(*) Media: আপনার ব্লগে যে মিডিয়াগুলো আছে অর্থাৎ ছবি, ভিডিও ইত্যাদি আছে তা কিভাবে প্রদর্শিত হবে তা নির্ধারণ করুন এই অপশন থেকে।

(*) Open ID: এখানে আপনি ওপেন আইডি ব্যবহার করে অন্য কোন ব্লগে নিয়মিত লগইন করতে পারবেন। এটা শুধুমাত্র মন্তব্য করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত (Use) হবে। কোন সাইটকে যদি আপনি বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেন, তাহলে তার নাম নিচের টেক্স বক্সে (Text Box) লিখে রাখুন।

(*) Domains: আপনার যদি নিজস্ব ডোমেইন থাকে, তাহলে তাকে এই ব্লগে রিডাইরেক্ট (Redirect) করার জন্য ব্যবহার করতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনার আর আলাদা করে হোস্টিং কিনতে হবে না। Add a Domain লেখাটির ডানপাশের ফাঁকা জায়গায় আপনার নিজের ডোমেইন নাম লিখে Add domain to blog লেখা বাটনে ক্লিক করুন। এবং পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

ওয়ার্ডপ্রেসের ব্লগ কাস্টমাইজেশন - Comments & Upgrades

Comments:
আপনার ব্লগে যে সব মন্তব্য করা হয়েছে তা প্রকাশ হবার আগে এই পেজে এসে জড়ো হয়ে থাকবে। ধারাবাহিকভাবে তালিকাগুলো এখানে দেখা যাবে। আপনি ইচ্ছেমতো মন্তব্যগুলোকে প্রকাশ করতে পারেন, কিংবা বাতিল করতে পারেন অথবা পরিবর্তন করতে পারেন। অর্থাৎ এই পেজটি আপনার ব্লগের কোন পোস্টের নিচে করা মন্তব্যগুলোর উপর আপনার সম্পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করে। কেউ যদি কোন স্প্যাম কমেন্ট করে থাকে, তাও আপনি এখান থেকে দেখে নিতে পারবেন।

উল্লেখ্য যে, মন্তব্যকারীর নাম, ইমেইল ঠিকানা, ওয়েবসাইট, আইপি ঠিকানা, সময় ও তারিখ সব রকমের তথ্য এখানে প্রদর্শিত হবে।

Upgrades:
এই পেজ দেয়া অপশনগুলো থেকে বেছে নিয়ে প্রয়োজনীয় আপগ্রেড আপনি করতে পারবেন। ডিফল্ট হিসেবে ওয়ার্ডপ্রেস আপনাকে ব্লগিং করার জন্য ৩ গিগাবাইট জায়গা দেবে। কিন্তু আপনি ইচ্ছে করলে আরও ৫ গিগাবাইট, ১৫ গিগাবাইট অথবা ২৫ গিগাবাইট জায়গা বাড়িয়ে নিতে পারেন। তবে এইসুবিধাগুলো শুধুমাত্র যারা টাকা দেবে তাদের জন্য নির্দিষ্ট।

ওয়ার্ডপ্রেসের ব্লগ কাস্টমাইজেশন - Header Image

আজ আমরা জানবো কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগের হেডার ইমেজ (Header Image) সেট করতে হয়। ওয়াপ্রেসে লগইন করে Design অংশে # Custom Image Header বাটনে ক্লিক করলে নিচের ছবির মতো পেজ আসবে। এই পেজ থেকে আপনি আপনার ব্লগের হেডার অংশের বেশ কিছু পরিবর্তন করতে পারবেন।
প্রথমে বলি এর হেডারে আপনার ব্লগের কনটেন্ট (Content) বা থিম (Theme) বা বিষয় (Subject) বা দর্শন (Philosophy) অনুযায়ী একটি সঠিক ছবি আপলোড করার কথা। এর জন্য উপরে দেয়া ছবির নিচের "Choose an image from your computer:" লেখাটির নিচের ব্রাউজ (Browse) বাটন প্রেস করে আপনার কম্পিউটারে আগে থেকে তৈরি করে রাখা ব্লগের হেডার ইমেজ ফাইলটি (Image File) সিলেক্ট (Select) করে দিন। এই ছবিটি Digg 3 Column থিমের জন্য অবশ্যই 904 x 160 pixels এর হতে হবে। অর্থাৎ ছবিটি ভূমির সমান্তরালে হবে ৯০৪ পিক্সেল এবং খাড়াখাড়ি হবে ১৬০ পিক্সেল মাপের। (যদি এর চাইতে বড় ছবি সিলেক্ট করেন, তাহলে তা আপলোড (Upload) হবার পর মাপমতো কেটে ঠিক করার অপশন আসবে।)


হার্ডডিস্ক থেকে ইমেজ ফাইলটি সিলেক্ট করে আপলোড বাটনে ক্লিক করে তা আপলোড (Upload) করুন। ছবিটি সঠিক মাপের হলে আপলোড হয়ে নিজে থেকেই হেডার (Header) হিসেবে সেট হয়ে যাবে এবং নিচের বার্তাটি দেখাবে:-
Header complete!

Visit your site and you should see the new header now.
আর যদি মাপে কমবেশি হয়, তাহলে তা ঠিক করার অপশন (Option) আসবে। উপরোক্ত বার্তাটি প্রদর্শন করার পর ফায়ারফক্সের (Firefox) অন্য ট্যাবে (Tab) থাকা আপনার ব্লগটি একবার রিফ্রেশ (Refresh) করে দেখুন, নতুন হেডার ইমেজটি সেট হয়ে গেছে।

আপাততঃ মনে হতে পারে যে, হেডার সিলেক্ট করার কাজ শেষ। কিন্তু আরও একটু কাজ বাকী রয়ে গেছে। আর তা হলো হেডারের নামটি কিভাবে দেখাবে এবং তার কোন রঙ পরিবর্তন করতে হবে কিনা তা।
উপরের ছবিটি দেখুন। আমি হেডারের ইমেজ ফাইলের মধ্যেই ব্লগের নাম (Blog Name) লিখে দিয়েছি। এজন্য আলাদাভাবে হেডারের নাম টেক্সট ভিত্তিকভাবে দেখানোর দরকার নেই। কিন্তু লাল রঙের গোল চিহ্নিত জায়গায় ডিফল্ট হিসেবে টেক্সটভিত্তিক নামটি রয়ে গেছে। যদি আপনারা হেডার ইমেজে ব্লগের নাম না লিখে থাকেন, তাহলে নামটি লুকিয়ে রাখার দরকার নেই। কিন্তু যদি ইমেজের মধ্যেই নামটি লেখা থাকে, তাহলে টেক্সটভিত্তিক নামটি লুকিয়ে রাখার প্রয়োজন আছে। এজন্য Hide Text বাটনে ক্লিক করে পরিবর্তন সেভ করুন বাটনে ক্লিক করুন। ব্লগের টেক্সটভিত্তিক নামটি আর দেখাবে না। যদি টেক্সটভিত্তিক নামটি রেখে দেন, তাহলে Select a Text Color বাটনে ক্লিক করে এর রঙের পরিবর্তন ঘটাতে পারবেন। পছন্দের একটি রঙে হেডারটিকে রাঙিয়ে পরিবর্তন সেভ করুন বাটনে ক্লিক করুন।

উপরের ছবিটি দেখুন। লাল রঙের বক্স চিহ্নিত জায়গায় টেক্সটভিত্তিক (Text) নামটি আর দেখাচ্ছে না। হেডার ইমেজ আপলোড করার পর যদি পরিবর্তন করার দরকার হয় (পছন্দ না হলে) তাহলে তাও করতে পারেন। পূর্বের নিয়মে হার্ডডিস্কে (Harddisk) রাখা একইভাবে একটি নির্দিষ্ট মাপের ছবি ব্রাউজ বাটনের মাধ্যমে সিলেক্ট করে আপলোড করুন। আপনি ইচ্ছে করলে সমস্ত পরিবর্তন বাতিল করে ডিফল্ট ছবিটিকে আর ফিরিয়ে আনতে পারবেন। এজন্য Reset Header Image and Color লেখাটির নিচে Restore Original Header (লাল রঙের তীর চিহ্নিত) বাটনটি ক্লিক করুন। ডিফল্ট হেডার ইমেজটি ফিরে আসবে।
## মনে রাখুন: হেডার ইমেজটির আয়তন (Image Size) ঠিক রেখে ফাইল সাইজ (File Size) ছোট রাখতে হবে। তাহলে ব্লগটি দ্রুত লোড (Load) হবে। কম স্পিডের (Slow Speed) কানেকশন নিয়েও যাতে আপনার ব্লগটিকে সাবলীলভাবে ভিজিট (Smoothly Visit) করা যায়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আপনার নিজের।

ওয়ার্ডপ্রেসের ব্লগ কাস্টমাইজেশন - Extras & Edit CSS

আমরা গত দুই পোস্টে (পোস্ট ১ এবং পোস্ট ২) জেনেছি যে কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেসের থিম এবং Widgets বাটনকে ব্যবহার করতে হয়। আজ আমরা জানবো # Extras এবং # Edit CSS বাটনের ব্যবহার। আগামী পোস্টে জানবো # Custom Image Header বাটনের ব্যবহার।

প্রথমে জানি #Extras বাটনের ব্যবহার:
ওয়ার্ডপ্রেস.কম (Wordpress.com) এর ডিফল্ট (Default) হিসেবে দুইরকম অতিরিক্ত সুবিধা আপনার ব্লগের জন্য ব্যবহার করতে দেয়। সেগুলো এই Extras বাটনের মাধ্যমে Active করতে পারবেন।



ওয়ার্ডপ্রেস কোম্পানী এখন পর্যন্ত মাত্র দুইটি অতিরিক্ত সুবিধা ব্লগারদেরকে প্রদান করেছে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো Snap shots, এই ফিচারটি ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি আপনার ব্লগের কোন লিংকের একটি সংক্ষিপ্ত ছোট্ট ছবি সেই লিংকে ভ্রমণ না করেও ভিজিটরদেরকে দেখাতে পারবেন। প্রাথমিক চিত্রটি দেখে সেই লিংকে অবস্থিত সাইট বা ব্লগটি সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। নিচের ছবিটি লক্ষ্য করুন। লাল রঙের বক্সে আমার ব্লগস্পট (Blogspot) ব্লগের একটি স্ন্যাপসট দেখা যাচ্ছে।

এই অনন্যসাধারণ সুবিধাটি পাওয়ার জন্য আপনাকে যা করতে হবে তা খুব সামান্য। শুধুমাত্র Enable Snap Shots on this blog লেখাটির বামপাশের টিক বক্সে ক্লিক করে একটি টিক চিহ্ন দিয়ে দিন এবং শেষে এটাকে সেভ করতে Update Extras বাটনে ক্লিক করুন।

ওয়ার্ডপ্রেস থেকে দেয়া ২য় এক্সট্রাটি হল Hide related links on this blog....
এই ফিচারটি হল: সাধারণভাবে ওয়ার্ডপ্রেসের ডিফল্ট ফিচার হল যে যদি আপনার ব্লগের পোস্টের অনুরূপ বা ট্যাগযুক্ত বা প্রায় একইরকম কোন পোস্ট অন্য কোন ব্লগেও থাকে (ওয়ার্ডপ্রেসের ব্লগ) তাহলে সেগুলোকেও আপনার পোস্টের নিচে দেখাবে। এই ফিচারটির মাধ্যমে অন্যদের ব্লগ সম্পর্কে আপনি ও আপনার ব্লগের ভিজিটররা তাৎক্ষণিকভাবে আরও তথ্য জানতে পারবেন। এর মাধ্যমে পরস্পরের মধ্যে লিংক বিনিময় হবে। ফলে এর মাধ্যমে পরস্পরের ব্লগে ভিজিটর সংখ্যা বাড়বে। কিন্তু আপনি ইচ্ছে করলে এই দারুণ ফিচারটি বন্ধ করে রাখতে পারবেন। শুধুমাত্র "Hide related links on this blog, which means this blog won’t show up on other blogs or get traffic that way" লেখাটির বামপার্শে অবস্থিত টিক বক্সে ক্লিক করে একটি টিক চিহ্ন দিয়ে দিন এবং শেষে এটাকে সেভ করতে Update Extras বাটনে ক্লিক করুন।

আমরা এবার আলোচনা করবো Edit CSS বাটন সম্পর্কে:
থিম কাস্টমাইজেশন পেজের Edit CSS বাটনে ক্লিক করলে নিচের ছবির মতো পেজে আমরা চলে আসবো। এখানে আপনি আপনার ব্লগের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করতে পারবেন।
তবে, যদি ওয়ার্ডপ্রেস.কম (wordpress.com) এর মাধ্যমে ফ্রি ব্লগ করেন, তাহলে আপনার প্রত্যাশা পূরণ হবে না। কারণ এই সুবিধাটা শুধুমাত্র যাঁরা নিজস্ব ডোমেইন (Domain) ও হোস্টিং (Hosting) এর মাধ্যমে ব্লগিং (Blogging) করছেন এবং ব্লগ সফটওয়ার হিসেবে Wordpress ব্যবহার করছে তাদের জন্য। Html সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন বা CSS জানেন এমন ব্লগাররাই (Blogger) এই পেজে থেকে সম্পূর্ণ সুবিধাটুকু আদায় করতে পারবে। কিন্তু যারা ফ্রি ব্লগিং (Free Blogging) করছেন, তাদের জন্য এই সুবিধাটা উন্মুক্ত নয়। আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, তারপরও ওয়ার্ডপ্রেস কেন এই ফিচারটি (Feature) রেখেছে? এটা রেখেছে কারণ এটা দেখে আপনার মনে যদি নিজস্ব হোস্টিং সম্পর্কে আগ্রহ জন্মে এই প্রত্যাশাটুকু তারা করতেই পারে।
 

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

কিছু কথা

সফটওয়ার ও ওয়েবওয়ারের বিভিন্ন টিপ্‌স, টিউটোরিয়াল, হ্যাক্‌স, টেমপ্লেট বা থিম্‌স ইত্যাদি নিয়েই আমি ব্লগ লিখছি। আমার প্রধান আগ্রহ ব্লগিং টিপস। এছাড়াও প্রযুক্তির বিচিত্র বিষয় নিয়ে মত বিনিময়, সমস্যা ও তার সমাধান এবং আলোচনা করার জন্য এই ব্লগ খুলেছি। আশা করি আপনি নিরাশ হবেন না। এই ব্লগের সব লেখাগুলো যেকোন মিডিয়ায় এই লাইসেন্সের আওতায় প্রকাশ করতে পারবেন। বিস্তারিত পড়ুন....

Search This Blog

© 2009-2014 Bangla Hacks | Design by: Bangla Hacks. Powered by: Blogger